মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৯৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেমন্তের স্নিগ্ধ হাওয়ায় মাঠজুড়ে দুলছে সোনালি ধানের শীষ, আর কৃষকের উঠোনে জমতে শুরু করেছে নতুন ফসল। টানা কয়েক বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে এবার কৃষকের মুখে ফুটেছে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত তৃপ্তির হাসি। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটার মহোৎসব। কৃষক কিষানিসহ পরিবারের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ধান কাটায়, কেউ ঝাড়াই-মাড়াইয়ে ব্যস্ত।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র মতে, চলতি আমন মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৮ হাজার ২৪৩ টন ধান এবং ৪৫ হাজার ৪০ টন চাল। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২০০ হেক্টর বেশি আবাদ হয়েছে, যা এ মৌসুমের সফলতার বড় সূচক।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, এবার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এতে গড়ে প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ধান ফলন হলে মোট ৪৫ হাজার ৯৬০ বিঘা জমি থেকে প্রায় ১১ লাখ ৪৯ হাজার মণ ধান উৎপাদিত হবে। যা প্রায় ৬৮ হাজার ২৪৩ টনের সমান। এই ধান থেকে মিলিং শেষে প্রায় ৪৫ হাজার ৪০ টন চাল পাওয়া যাবে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন খোসবাস গ্রামের কৃষক মো. শাকির আহমদ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার তীব্র আশংকা নিয়ে আমন চাষ করি। কারণ প্রতি বছরই ফসল ঘরে তোলার মুহূর্তে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এবারো এ আশংকার ঊর্ধ্বে ছিলাম না। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের যথাযথ উদ্যোগের কারণে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। আমার জমিতে প্রতি কেয়ারে ১৫-২০ মন ধান পাব বলে আশা করছি।



