মঙ্গলবার ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নির্বাচনী প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখতে হবে

সম্পাদকীয়   |   রবিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৪১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নির্বাচনী প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখতে হবে

জাতীয় নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেইং ফিল্ড গঠনের আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রিজিম প্রশাসনের সব স্তরে দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে তার সাংবিধানিক আইনগত নিরপেক্ষতার অবস্থান থেকে বিচ্যুত করে একটি দলীয় প্রশাসনে পরিণত করেছিল। গত ১৪ মাসে সব ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও সংস্কারের দাবি নিয়ে অনেক কথাবার্তা হলেও আদতে দৃশ্যমান পরিবর্তন ও সংস্কার হয়েছে খুব সামান্যই। এ কারণেই নির্বাচন সমাগত হলেও সর্বত্র এক ধরনের অনিশ্চয়তা, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা লক্ষ করা যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি পরস্পর প্রতিপক্ষ হয়ে প্রশাসনে প্রভাব ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে চতুর্মুখী চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের টার্গেটেড ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে প্রশাসনে রদবদলের মধ্য দিয়ে পদায়িত বিএনপি-জামায়াতের কর্মকর্তাদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলের পরস্পর ঢিল ছোঁড়া ছুড়ি এবং উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে থাকা কতিপয় উপদেষ্টার বিতর্কিত ও সন্দেহজনক ভূমিকা পুরো সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের বাস্তবতা জিঁইয়ে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও দলবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে তাদের দূরে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের সাথে যোগসাজশ ও পক্ষপাতিত্বের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু সুরাহা অথবা নির্বাচনের আগে তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে হবে।

দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের মূল সহায়ক শক্তি ছিল দেশের আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। দেশকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রভাবমুক্ত করতে প্রথমেই প্রশাসনকে ব্যাপকভাবে ঢেলে সাজানো জরুরি ছিল। সরকার তা না করে কোনো রকমে লোক দেখানো রদবদল করেই একটি নির্বাচনী প্রশাসন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ও পদায়ন ঘটেছে, সেখানে অধিকাংশ স্থানেই জামায়াতের চাহিদা মোতাবেক নিয়োগ ও বদলির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত শিক্ষামন্ত্রণালয় ও বিভাগে, স্বাস্থ্য খাতে জামায়াত সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য থাকায় আগামী নির্বাচনে এসব খাতের ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রভাব আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু জনপ্রশাসনেই নয়, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ঈদের মতো আনন্দমুখর করে তুলতে চান। প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা আওয়ামী সুবিধাভোগী ও দলীয় ক্যাডারদের বহাল রেখে যেমন কাক্সিক্ষত নির্বাচন করা সম্ভব নয়, একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে জামায়াতের দলীয় প্রভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দলীয় স্বার্থের নিরীখে ভূমিকা পালন করলে নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা কারো জন্যই প্রত্যাশিত বা কাক্সিক্ষত নয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ, জাতীয় ঐক্যমত, সংস্কার, গুম-খুন, গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা একপ্রকার বাধ্যবাধকতা ছিল। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কারো দ্বিমত না থাকলেও অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতভিন্নতা, অনিশ্চয়তা জিঁইয়ে রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য একটি জোটের পিআর পদ্ধতির নির্বাচন দাবি, সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি ইত্যাদি ইস্যু জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার পরোক্ষ তৎপরতাকে হিসেবে গণ্য করা যায়। ত্রুটিপূর্ণ বা যেনতেন একটি নির্বাচন যেমন কাক্সিক্ষত নয়, তেমনি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিলে বড় ধরনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে দেশ। ইতোমধ্যে আইএমএফ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে অনুমোদিত ঋণচুক্তির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ জাতীয় নির্বাচনের আগে ছাড় করা হবে না। অর্থাৎ জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল তাদের আগের চুক্তির অর্থ ছাড় করতেও রাজি হচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া দেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও হবে না। এহেন বাস্তবতায় ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিকে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। তার আগে নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নহীন করতে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের যেমন নির্বাচনের কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে, সেই সঙ্গে প্রশাসনে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাববিস্তার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন বিলম্বিত করার যেকোনো দাবি ও প্রয়াস থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচনে একচ্ছত্র দলীয় প্রভাব পালন করবে, এমন যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি এই শীতের মওসুমে সারাদেশে কোনো ইসলামী বক্তা ওয়াজ-মাহফিলের নামে বিতর্কিত ও দলীয় বক্তব্য কিংবা এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত না হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কবার্তা জারি করা আবশ্যক।

Facebook Comments Box
আরও

এ বিভাগের আরও খবর

Chief Editor
Shahan Ahmed Chowdhury
Editor
J U Sumon
News Editor
Mehdi Hassan
UK Office
USA OFFICE
  • Hasan Hafizur Rahman
    264/A,Central Avenue
    Garden City
    NY 11040
    USA
সিলেট ব্যুরো
  • আব্দুর মুক্তাদির
    সিটি কর্পোরেশন মার্কেট (২য় তলা)
    চালিবন্দর, সোবহানীঘাট, সিলেট।
ঢাকা ব্যুরো
  • সৈয়দ আবু নাসের
    এমএস প্লাজা ২৮/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০