শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

মৌলভীবাজারে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ

সাজু মারছিয়াং,শ্রীমঙ্গল   |   রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মৌলভীবাজারে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ

হাওর-বাওর, পাহাড় সমতল ভূমি নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা। এ জেলায় সমতলে বসবাস করার পাশাপাশি পাহাড়ের টিলা বা উঁচু জায়গায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই টিলা ধ্বসের ছোট-বড় অনেক ঘটনাই ঘটে। গত চার বছরে টিলা ধ্বসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে আবারও জেলার বিভিন্ন স্থানে টিলা ধ্বসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অবৈধভাবে অপরিকল্পিত টিলা মাটি কাটা ও বিক্রির কারণে টিলা ধ্বসের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর দুর্যোগের সময় দায় এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও পাহাড়ে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিবারগুলোকে নিরাপদ পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা দেখা যায় না।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুম আসলে মৌলভীবাজারে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের জীবন থাকে শঙ্কায়। ভারী বর্ষণে মৌলভীবাজার জেলায় প্রতি বছরই ছোট-বড় পাহাড়ধ্বসের ঘটনা ঘটছে। এতে কখনো ঘটছে প্রাণহানি আবার কখনো কেউ আহত হচ্ছে, ভাঙছে ঘরবাড়ি-সড়ক। টানা ভারী বর্ষণে আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে যায় স্থানীয়দের।

টিলায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আইনের তোয়াক্কা না করে জেলার শ্রীমঙ্গল,কমলগঞ্জ, কুলাউড়া,বড়লেখাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা টিলা মাটি বিক্রি করে দেয়। মাটি বিক্রি করার কারণে বৃষ্টি হলে টিলা ধ্বসের শঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে বসতবাড়ি, রিসোর্ট ও বাগান তৈরির জন্য এসব মাটি বিক্রি করা হয়।

খুঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় টিলা ভূমি রয়েছে। এসব টিলা ও পাহাড়ি এলকায় ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তবে সারা বছরই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে টিলা কাটা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, মোহাজেরাবাদ এবং কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা এলাকায় টিলা-রাস্তা কেটে এবং ছড়া দখল করে বসতবাড়ি, রিসোর্ট এবং দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কেউ টাকার বিনিময়ে মাটি বিক্রি করেন। এসব কারণে বৃষ্টি হলে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা দেখা দেয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা না থাকায় টিলা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। আর এতে ঝুঁকি বাড়ছে পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের। বৃষ্টি হলে টিলা ধ্বসের শঙ্কা দেখা দেয়। ভারী বৃষ্টি হলে আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়ার বাসিন্দা সবিতা তাঁতী, শশী তাঁতী, ফ্রান্সিস কন্দ,জয়ন্তী তাঁতী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষায় পাহাড় ধসে ঘর ভাঙে, তবু যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। এবারও বসতির পাশের পাহাড়ে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে যেতে পারে সবকিছু। সমতলে তাদের থাকার জায়গা না থাকায় টিলা ধ্বসের আশঙ্কা নিয়ে আমরা বসবাস করছি। আমাদের পাশের টিলায় তিন বছর আগে ধ্বসে গিয়ে চারজন মারা যায়। আমাদের টিলার মাটিও দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা বাগানে টিলা ধসে চার নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। একই বছর কুলাউড়ার ভাটেরায় পাহাড় ধসে একই গ্রামের ৩ শিশু ও চাতলাপুর চা বাগানে আরও এক নারী মারা যান। ২০২৪ সালের কমলগঞ্জের আদমপুর বনবিটের কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজ করার সময় টিলা ধ্বসে এক নারীর মৃত্যু হয়। সবশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গৃহস্থালির কাজের জন্য টিলার মাটি আনতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয় এবং আরও তিনজন আহত হন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, যারা টিলা কাটে তারা পরিবেশ ও প্রতিবেশ দুটির ক্ষতি করছে। প্রকৃতিকে হত্যা করা হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব বিষয়ে শক্ত ভাবে প্রতিহত করা। টিলা গুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। টিলা কাটার প্রভাবে নিয়মিত টিলা ধ্বসে পড়ছে এমনকি এসব টিলা ধ্বসের ঘটনায় প্রতি বছর মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। টিকা কাটার অভিযোগ পেলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বর্ষার শুরু থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, টিলা ধ্বসে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পাহাড়ি জনপদে তারা সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের সার্বিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Ajker Desh UK-এর খবর

Chief Editor
Shahan Ahmed Chowdhury
Editor
J U Sumon
News Editor
Mehdi Hassan
UK Office
USA OFFICE
  • Hasan Hafizur Rahman
    264/A,Central Avenue
    Garden City
    NY 11040
    USA
সিলেট ব্যুরো
  • আব্দুর মুক্তাদির
    সিটি কর্পোরেশন মার্কেট (২য় তলা)
    চালিবন্দর, সোবহানীঘাট, সিলেট।
ঢাকা ব্যুরো
  • সৈয়দ আবু নাসের
    এমএস প্লাজা ২৮/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০