বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

মুফতি সাইফুল ইসলাম,ঢাকা   |   সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

জুমার দিন মুসলিমদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের অন্যতম ফজিলত হলো—এতে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন। সহিহ হাদিসে এই মুহূর্তকে খোঁজার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে আসরের পরের শেষ সময়ে।

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً، مِنْهَا سَاعَةٌ لَا يُوجَدُ عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ إِيَّاهُ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ»

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, জুমার দিন বারোটি সময়াংশে বিভক্ত।

এর মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে তা দান করেন। সুতরাং তোমরা তা আসরের পরের শেষ সময়ে খুঁজে নাও।” (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮; সহিহুল জামে, হাদিস : ৮১৯০)
এই হাদিসটি জুমার দিনের একটি অনন্য ফজিলতকে সামনে এনেছে। দিনটির ভেতরে এমন একটি বিশেষ সময় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কবুল করেন।

“বারোটি সময়াংশ” কথাটি দ্বারা পুরো দিনটিকে বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত বোঝানো হয়েছে; এর মধ্যে একটি পর্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার সময়।
হাদিসে নির্দিষ্ট করে সেই মুহূর্তকে চিহ্নিত না করে বরং “খুঁজে নেওয়ার” নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে একটি গভীর হিকমত রয়েছে। যদি সময়টি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো, তবে মানুষ কেবল সেই সময়টুকুতেই ইবাদতে মনোযোগী হতো।

কিন্তু গোপন রাখার ফলে একজন মুমিন জুমার পুরো দিনজুড়ে, বিশেষ করে শেষ ভাগে, বেশি বেশি দোয়া, যিকির ও ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে বিশেষভাবে “আসরের পরের শেষ সময়”-এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এজন্য অনেক সাহাবি ও তাবেঈন মত প্রকাশ করেছেন যে, এই কাঙ্ক্ষিত সময়টি সম্ভবত আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো এক মুহূর্তে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণনায় এই সময়কে জুমার দিনের শেষ অংশে খোঁজার কথা এসেছে (সুনান আবু দাউদ, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা)।

অন্যদিকে কিছু হাদিসে জুমার খুতবা ও নামাজের সময়কেও এই বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (মুসলিম, হাদিস: ৮৫৩)।

আলেমরা এ দুটি বর্ণনাকে সমন্বয় করে বলেন, জুমার দিনে দোয়া কবুলের একাধিক সম্ভাব্য সময় থাকতে পারে, অথবা সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা আসরের পরের শেষ সময়।
এই হাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে দোয়ার কবুলিয়তের জন্য কোনো জটিল শর্ত আরোপ করা হয়নি; বরং “কোনো মুসলিম বান্দা” বলা হয়েছে। তবে অন্যান্য দলিলের আলোকে বোঝা যায়, দোয়া কবুলের জন্য হালাল উপার্জন, খুশু-খুজু, একাগ্রতা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)।

সারকথা, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, জুমার দিনটি শুধু একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি দোয়া, আত্মসমালোচনা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক বিশেষ সুযোগ। বিশেষ করে আসরের পরের সময় টুকু একজন মুমিনের জন্য হওয়া উচিত গভীর মনোযোগের ইবাদতের মুহূর্ত, যেখানে সে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে নিবেদিত হয়।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

saifpas352@gmail.com

Facebook Comments Box
আরও
Chief Editor
Shahan Ahmed Chowdhury
Editor
J U Sumon
News Editor
Mehdi Hassan
UK Office
USA OFFICE
  • Hasan Hafizur Rahman
    264/A,Central Avenue
    Garden City
    NY 11040
    USA
সিলেট ব্যুরো
  • আব্দুর মুক্তাদির
    সিটি কর্পোরেশন মার্কেট (২য় তলা)
    চালিবন্দর, সোবহানীঘাট, সিলেট।
ঢাকা ব্যুরো
  • সৈয়দ আবু নাসের
    এমএস প্লাজা ২৮/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০