
নাজমুল ইসলাম,ঢাকা | বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দীর্ঘ ১৪ বছরে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাঁদের পরিবার। তবে পরিবারের উদ্বেগের কথা তদন্ত সংস্থার কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার (৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় হতাশার কথা জানান রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের রোমান।
এদিন, সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও নওশের রোমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও তাঁদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন,আমাদের মেঘ খুবই হতাশাগ্রস্ত। কারণ এত বছরেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি পাইনি। এই জন্যই আজ এখানে আসা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কী পেয়েছিল, সেটিও আমাদের জানা নেই। আসলে এসবে আমরা প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাই।
তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে আমরা বিচার চাইছি। আগে অন্তত এক মাস পরপর আদালতে অগ্রগতির খবর পাওয়া যেত, এখন ছয় মাস পরপর সময় দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। তদন্তের হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যা পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, এ মামলা শুধু আমাদের পরিবারের ব্যাপার না। এটা বাংলাদেশের মানুষের। কারণ এ নিয়ে জানার সবার আগ্রহ রয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা পুরোপুরি হতাশ।
অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ বলে,আমাদেরকে অনেকে মামলার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান, আমরা কোনো উত্তর দিতে পারি না।
তদন্তের ধীরগতি প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থাকে কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ঘটনার পরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেককেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন,১৫ বছর আগের একটি ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাগর-রুনির পরিবারের বিচার প্রার্থনার আকুতির সঙ্গে আমি অবশ্যই সমব্যথী। তবে রাষ্ট্রের কল্যাণে দেশের যেকোনো দুর্ঘটনা, যেকোনো অপরাধের বিচার হবে।
তবে তদন্ত কর্মকর্তারা নতুন করে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। পরিবারের উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তিনি তদন্তকারীদের জানাবেন।
এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আগামী ৭ জুন হাইকোর্ট খুললে সে প্রতিবেদনটি দেখার জন্য আবেদন করা হবে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে ১২৬ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়েছে।
