সম্পাদকীয় | বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিগত এক যুগে দেশে ধর্ষণের ঘটনায় ৩৪৭ জনের মৃত্যু হলেও বন্ধ হচ্ছে না নারী-শিশুর প্রতি এই জঘন্য হিংস্রতা। অন্যদিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও প্রায় অর্ধেকই টিকছে না তদন্তে।অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিতে বিলম্ব বা শাস্তি না হওয়ার পাশাপাশি সমাজে জেন্ডার ভিত্তিক সহনশীলতা সৃষ্টি না হলে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে না। অন্যদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে,ধর্ষণ-পরবর্তী ঘটনা বর্ণনায় ভিকটিমের সংকোচ বোধ অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধা দিচ্ছে আসামিকে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্যানুযায়ী দেশে ১০ বছরে (২০১৪-২০২৩) ধর্ষণজনিত কারণে ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, ২০২৪ সালে ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যু হয় ১১ জনের এবং চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে মারা যান ১৫ জন। বিগত ১১ বছর ৯ মাসে ধর্ষণজনিত ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩৪৭ জনের।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য- ১০ বছরে ধর্ষণ ও ধর্ষণ জনিত মোট মামলা হয়েছে ৭৩ হাজার ৬৫২টি। এসব মামলার মধ্যে ধর্ষণ মামলা হয় ৫০ হাজার ৫৮৬টি। ধর্ষণের কারণে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা ৩২১টি। সংঘবদ্ধ ঘটনায় ৩ হাজার ৬১১টি এবং ধর্ষণ চেষ্টা মামলা ১৯ হাজার ২৩৪টি।
এসব মামলায় এজাহার নামীয় আসামি এক লাখ ১৭ হাজার ২ জন। গ্রেফতার হওয়া আসামি ৬৭ হাজার ৩৯৭ জন। অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল ৬১ হাজার ৮৪০টি মামলার। ফাইনাল রিপোর্ট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৮৪টি। তদন্তাধীন রয়েছে ৯২৮টি মামলা।
এদিকে সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রকাশ করা ‘ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি, কারণ ও এর প্রতিকার সংক্রান্তে পিবিআইয়ের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ধর্ষণসম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান।
গবেষণায় পিবিআই তার ৪৭টি জেলা ইউনিটে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে ধর্ষণসংক্রান্ত ১০৪৭টি জিআর মামলা তদন্ত করে। যার মোট এজাহারনামীয় আসামি ছিল ২ হাজার ২১৯ জন। পিবিআই এসব মামলার মধ্যে ৫৭৫টির তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় এক হাজার ৬ জনকে। এ ছাড়া ৪১২টি মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়। ৬০টি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের এসব মামলায় পুলিশি তদন্তে ৫৮ শতাংশ ঘটনা সত্য বলে প্রমাণ হয়।



