
বিনোদন প্রতিবেদক | বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন ছোটপর্দার ব্যস্ততম সময় পার করছেন নাট্যাঙ্গনের তারকা ও নির্মাতারা। রাজধানীর বিভিন্ন শুটিং স্পট থেকে শুরু করে ঢাকার বাইরে পূবাইল, কক্সবাজার কিংবা বিভিন্ন রিসোর্ট সবখানেই চলছে ঈদ নাটকের টানা শুটিং। উৎসবকে ঘিরে দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ থাকায় নির্মাতারাও এবার গল্প, নির্মাণ ও উপস্থাপনায় আনতে চাইছেন নতুনত্ব।
এবার ঈদের নাটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পরিবারকেন্দ্রিক গল্প। পারিবারিক সম্পর্ক, আবেগ, ভালোবাসা, মান-অভিমান ও একসঙ্গে থাকার অনুভূতি এসব বিষয়ই উঠে আসছে নাটকের মূল উপজীব্য হয়ে। পাশাপাশি থাকছে বন্ধুত্ব, রোমান্স, কমেডি ও সামাজিক বাস্তবতার গল্পও।
গত কয়েক বছরে থ্রিলার ও অ্যাকশনধর্মী গল্পের জনপ্রিয়তা বাড়লেও ঈদের সময় পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো নাটকের চাহিদাই বেশি। সে কারণে প্রযোজক ও নির্মাতারা এখন পারিবারিক আবহের গল্প নির্মাণে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বড় বাজেটের তারকাখচিত নাটকের পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট বাজেটের গল্পনির্ভর নাটকও তৈরি হচ্ছে সমান গুরুত্বে। ফলে এবারের ঈদ আয়োজনে যেমন থাকছে জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি, তেমনই থাকছে নতুন ভাবনার গল্পও।
ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরাও। অনেকেই একসঙ্গে একাধিক নাটকের শুটিং করছেন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘ সময় নিয়ে বেছে বেছে কাজ করছেন।
এবারের ঈদ নাটকে আলোচনায় রয়েছেন মোশাররফ করিম, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তৌসিফ মাহবুব, নিলয় আলমগীর, মুশফিক আর ফারহান, ইরফান সাজ্জাদ, খায়রুল বাসার, ইয়াশ রোহান, আরশ খানসহ অনেক জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। অভিনেত্রীদের মধ্যে কাজ করছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী, কেয়া পায়েল, জান্নাতুল হিমি, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, নাজনীন নীহাসহ আরও অনেকে। নতুন জুটি ও ভিন্নধর্মী গল্প নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন নির্মাতারা।
এদিকে ঈদ নাটককে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে প্রচারণার প্রতিযোগিতা। নাটকের পোস্টার, টিজার ও শুটিংয়ের বিভিন্ন মুহূর্ত প্রকাশ করে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন শিল্পী ও নির্মাতারা। অনেক নাটকের কাজ শেষ পর্যায়ে, আবার কিছু নাটকের শুটিং চলবে ঈদের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত।
তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিডিউল জটিলতা, শিল্পীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং প্রযোজনার ব্যয় বাড়ায় অনেক নির্মাতাকে বাজেট কমিয়ে কাজ শেষ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত শিল্পী না পেয়ে মাঝপথে নাটকের পরিকল্পনাও বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এখন নাটকের বড় আয়ের জায়গা ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যম। কিন্তু আগের তুলনায় সেখানকার আয় কমে যাওয়ায় অনেক প্রযোজক বিনিয়োগ তুলে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে গত ঈদের তুলনায় এবার নাটকের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও ঈদকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ও পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের জনপ্রিয়তাই নাট্যাঙ্গনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
