নাজমুল ইসলাম,ঢাকা | বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে যারা হত্যা করেছে,তাদের সঙ্গে ৩০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র্যাব। তদন্তে পাওয়া তথ্যের কথা জানিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী দুবাইতে অবস্থানরত দর্জি মাসুম ওরফে ভাগ্নে মামুন ও তার ভাই মশিউরের নির্দেশই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
১৯ নভেম্বর বুধবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম।এর আগে র্যাব-৪ কিবরিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী বলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ও মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজন (৩৫)। র্যাব বলছে, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডে শুটারদের সঙ্গে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলেন পাতা সোহেল। সোহেল ও সুজন দুজনই মিরপুরকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা ‘ফোর স্টার গ্রুপের সদস্য।
মো. মাহবুব আলম বলেন, গত সোমবার ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবী এলাকায় বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানে ৬ জন অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে পিস্তল দিয়ে বুকে ও পিঠে অতর্কিত গুলি করে গোলাম কিবরিয়াকে হত্যা করে। এরপর পালানোর সময় স্থানীয় জনতার ওপরও গুলি চালায় তারা। এতে এক রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় ছাত্র-জনতার ধাওয়ায় জনি ভূইয়া নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।
র্যাব-৪ এর এই অধিনায়ক বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-৪ ঘটনাস্থলের ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ছায়া তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার রাতে সাভারের বিরুলিয়া থেকে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী পাতা সোহেল এবং টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে ১৮ মামলার শীর্ষ ও পলাতক সন্ত্রাসী সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানিয়ে র্যাবের কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আসামিরা পেশাদার হত্যাকারী। পাতা সোহেলের নামে একাধিক হত্যা, ডাকাতি, মাদকসহ পল্লবী থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, ইব্রাহিম ও মামুন নিয়ন্ত্রিত যেসব এলাকা রয়েছে, সেসব এলাকায় এই ফোর স্টার গ্রুপের সদস্যরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আলম বলেন, সোহেল ওরফে পাতা সোহেল অর্থ সরবরাহ করেছিলেন। তবে তিনি কীভাবে অর্থ পেয়েছেন কিংবা কার কাছ থেকে পেয়েছেন সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।হত্যাকাণ্ডে দুবাইতে অবস্থানরত দর্জি মাসুম ওরফে ভাগ্নে মামুনের সম্পৃক্ততা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামুনের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কি না সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। হত্যাকাণ্ডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কানেকশন থাকতে পারে, সবাইকে গ্রেপ্তার করলে রহস্য উন্মোচিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুবাই বসেই হত্যার নির্দেশ দেয় মামুন। আর তা বাস্তবায়ন করে মামুনেরই ছোট ভাই মশিউরের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত জনি, পাতা সোহেল ও দর্জি মাসুম। মিরপুরের সবুজ বাংলা ও বাউনিয়াবাধ এলাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই সদস্যদের চাঁদা বাজিতে বাধা দেওয়ায় কিবরিয়াকে খুন করা হয়।



