
আকবর খান,ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দাম্পত্য জীবন মানবজীবনের অন্যতম পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বিয়ের মাধ্যমে শুধু দুইজন মানুষের মিলনই ঘটে না, বরং দুইটি পরিবারের মধ্যেও নতুন বন্ধন তৈরি হয়। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক সমাজকে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামে বিয়েকে তাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভাবের ভয়ে বিয়ে থেকে বিরত না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের ধৈর্য ও সংযম অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) যুবসমাজকে বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন, বিয়ে মানুষের দৃষ্টি ও চরিত্রকে সংযত রাখতে সহায়তা করে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ পূর্ণ করে।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) বলেছেন, যেমন নারীদের ওপর পুরুষদের অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদের ওপরও নারীদের অধিকার রয়েছে। স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পরিবারপ্রধান হিসেবে একজন পুরুষ তার স্ত্রী-সন্তানের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবেন। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, পোশাক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা স্বামীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিন আলাদা থাকা দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজনবশত যেমন জীবিকা, সফর বা অন্য কোনো কারণে স্বামী দূরে থাকলে সাধারণভাবে চার মাসের মধ্যে অন্তত একবার স্ত্রীর কাছে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে খলিফা হজরত ওমরের (র.) একটি ঘটনা ইসলামি ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। এক রাতে তিনি নগর পরিদর্শনে বের হয়ে এক নারীর কণ্ঠে স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে বেদনাময় কবিতা শুনতে পান। পরে তিনি নিজের মেয়ে হজরত হাফসাকে (র.) জিজ্ঞাসা করেন, একজন নারী কতদিন স্বামীর অনুপস্থিতি সহ্য করতে পারে। উত্তরে তিনি বলেন, সাধারণভাবে চার মাস পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করা সম্ভব। এরপর থেকেই হজরত ওমর (র.) যুদ্ধে অংশ নেওয়া সৈন্যদের চার মাস পরপর বদলির ব্যবস্থা করতেন।
ফকিহদের মতে, চার মাসের বেশি সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে হলে স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া জরুরি। যদি স্ত্রী এতে রাজি থাকেন এবং উভয়ের মধ্যে কোনো ধরনের অনৈতিকতার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে বিশেষ প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা বৈধ হতে পারে।
বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক আল্লামা তাকি উসমানীও উল্লেখ করেছেন, চার মাসের কম সময়ের সফরের জন্য স্ত্রীর অনুমতি জরুরি নয়। তবে এর বেশি সময়ের জন্য কোথাও অবস্থান করতে হলে সেটি হজ, দাওয়াত, তাবলিগ বা অন্য যেকোনো ধর্মীয় কাজই হোক স্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন।
ইসলাম স্বামীকে পরিবারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দিলেও স্ত্রীর অনুভূতি, সন্তুষ্টি ও মূল্যায়নকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, উত্তম চরিত্রের মানুষ সেই, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়। এ থেকেই বোঝা যায়, দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার গুরুত্ব কতটা গভীর।
