সাইফ হাসান.লন্ডন | রবিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাজ্য ডেনমার্কের মডেল অনুসরণ করে কঠোর অভিবাসন নীতি চালুর পরিকল্পনা করছে। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ এই মাসের শেষের দিকে নতুন নিয়ম ঘোষণা করবেন। ডেনমার্কের শরণার্থীদের অস্থায়ীভাবে রাখা এবং ফ্যামিলি রিইউনিয়েনের কঠিন নিয়মগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রস্তাব নিয়ে লেবার পার্টির মধ্যেই তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ গত মাসে তার কর্মকর্তাদের ডেনমার্কে পাঠিয়েছিলেন। তারা যুক্তরাজ্যর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং আশ্রয় নীতিগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। ডেনমার্কের নীতি ইউরোপের অন্যতম কঠোর বলে পরিচিত। বিবিসি প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই মাসেই শাবানা মাহমুদ নতুন পরিবর্তনগুলো ঘোষণা করবেন।
ডেনমার্কের নিয়মে, যারা সংঘাত থেকে পালিয়ে আসে তাদের সাধারণত অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।যুক্তরাজ্যর নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় কোনটি নিরাপদ দেশ। ২০২২ সালে ডেনমার্ক সরকার দামেস্কের প্রায় ১২০০ সিরীয় শরণার্থীকে জানায় যে তাদের বসবাসের অনুমতি আর নবায়ন করা হবে না, কারণ দেশটি ওই অঞ্চলকে নিরাপদ বলে মনে করে।
ডেনমার্কের ফ্যামিলি রিইউনিয়েনের নিয়মও খুব কড়া। কোনো শরণার্থী তার সঙ্গীকে আনতে চাইলে দুজনেরই বয়স ২৪ বা তার বেশি হতে হয়। ডেনমার্কে থাকা সঙ্গীকে অবশ্যই তিন বছর কোনো সরকারি সুবিধা না নিয়ে থাকতে হয় এবং আর্থিক গ্যারান্টি দিতে হয়। দু’জনকেই ড্যানিশ ভাষা পরীক্ষায় পাস করতে হয়। এমনকি সরকার কর্তৃক “সমান্তরাল সমাজ” হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় যেখানে ৫০% এর বেশি বাসিন্দা ‘অ-পশ্চিমা’ বসবাসকারীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের অনুমতি দেওয়া হয় না।
এই পরিকল্পনা লেবার পার্টির ভেতরেই বিভক্তি তৈরি করেছে। দলের বামপন্থী এমপি ক্লাইভ লুইস বলেছেন, এটি “কট্টরপন্থী” এবং “অতি-ডানপন্থীদের কথাবার্তা গ্রহণ করার সামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, রিফর্ম ইউকে পার্টির ভোটারদের আকৃষ্ট করতে গিয়ে প্রগতিশীল ভোটারদের হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
নটিংহাম ইস্টের এমপি নাদিয়া হুইটম এই পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক পথ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ডেনমার্কের কিছু নীতি, বিশেষ করে “সমান্তরাল সমাজ” বিষয়ক নিয়মটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে বর্ণবাদী। তবে “রেড ওয়াল” আসনের এমপিদের নেত্রী জো হোয়াইট বলেছেন তিনি চান সরকার এই পথে আরও এগিয়ে যাক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তা না হলে আগামী নির্বাচনে রিফর্ম পার্টি লেবার আসনগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং তারা ধ্বংস হয়ে যাবেন।



