নিউজ ডেস্ক | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

লন্ডনের আবাসন সংকটের কারণে শত শত পরিবারকে উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘর না থাকায় লন্ডন কাউন্সিলগুলো সাধারণ মানুষকে প্রায় ২৭০ মাইল দূরের কাউন্টি ডারহামে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। অপরিচিত জায়গায় গিয়ে কাজ ও শিক্ষা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। অনেক ক্ষেত্রে তারা আসবাবপত্রহীন জরাজীর্ণ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অমানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এখন পুরো যুক্তরাজ্য জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মার্গারেট নামের এক নারী এবং তার পরিবার লন্ডনে ভালো ভাবেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু তিন মাস আগে তাদের হঠাৎ ট্যাক্সিতে করে ২৭০ মাইল দূরে কাউন্টি ডার হামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি হতে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য পেতে অন্তত পাঁচ মাস সময় লেগেছে যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
আবাসন সংকট মেটাতে লন্ডন কাউন্সিলগুলো ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকশ পরিবারকে এই এলাকায় পাঠিয়েছে। রেলোকেট ইউকে নামক একটি সংস্থা এই স্থানান্তরের কাজগুলো পরিচালনা করছে। তবে কাউন্টি ডারহাম কাউন্সিল জানিয়েছে যে অনেক পরিবারকে হীটার বা আসবাবপত্র ছাড়াই অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও স্যাঁতসেঁতে বাড়িতে রাখা হচ্ছে।
এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় অনেকে তাদের সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় কিছু চ্যারিটি সংস্থা যেমন দ্য আর্ক বা হর্ডেন টুগেদার এই অসহায় পরিবারগুলোকে হাড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সাহায্য করছে। অনেক শিশু তাদের পুরোনো বন্ধু ও স্কুল হারিয়ে চরম ডিপ্রেশনে ভুগছে।
ব্রিটিশ সরকারের আবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এই ধরণের ঘটনা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং কাউন্সিলগুলোকে এই পরিস্থিতি এড়াতে কাজ করা উচিত। বর্তমানে লন্ডনে হোমলেস মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এমন অমানবিক সিদ্ধান্তের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভুক্তভোগী অনেক পরিবার এখন নতুন করে জীবন শুরু করার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে।



