
নাজমুল ইসলাম,ঢাকা | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রকৃতির রুক্ষতা মুছে প্রাণের সজীবতা আর নতুন সৃষ্টির প্রত্যাশা নিয়ে আবারও ফিরে এলো বর্ষা। বাংলার ঋতুচক্রে বর্ষার সেই চিরচেনা রূপ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরকে ধারণ করে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হলো উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের বর্ণিল ‘বর্ষা উৎসব-১৪৩৩’।
‘আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক, বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় এই উৎসব।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার। তিনি তার বক্তব্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক সমাজ গঠনে আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।
উৎসবের আলোচনা পর্বে অংশ নেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা, বর্ষা উৎসব-১৪৩৩ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন এবং উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ। বর্ষাকথন পাঠ করেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব শেখ আনিসুর রহমান।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে গান, আবৃত্তি আর নৃত্যের ছন্দে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পূর্ণচন্দ্র মন্ডল ও তার দল রাগসংগীত ‘মেঘমল্লার’ পরিবেশন করে বর্ষার আবাহন জানান।
এরপর একক ও দলীয় পরিবেশনায় সুরের মূর্ছনায় ভেসে যায় পুরো প্রাঙ্গণ। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, জয়া সেন গুপ্তা ও শাওন কুমার রায়। একক নৃত্য পরিবেশন করেন তর্পিতা ইসলাম অবধি। দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় ধৃতি নর্তনালয় ও স্পন্দন।
এছাড়া উদীচীর বিভিন্ন শাখা ও স্বপ্নবীনা দলের সমবেত সংগীত পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। আবৃত্তির সুরে বৃষ্টির অমোঘ রূপ আর মানবিক চেতনার বার্তা ছড়িয়ে দেন রেজীনা ওয়ালী লীনা ও সুবর্না আরফিন। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে মুক্তধারা, সংস্কৃতি বিকাশ ও চর্চা কেন্দ্র এবং স্রোত আবৃত্তি সংসদ।
পরিবেশনা শেষে শিল্পী ও অতিথিদের হাতে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা।
