নাজমুল ইসলাম,সিলেট | সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসাবে যোগদানের সময় বলেছিলেন সিলেট নগরীর কোনো হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমান মিললে পরিত্র নগরীর সম্মান রক্ষার্থে সাথে সাথে সিলগালা করে দেয়া হবে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উনার কথার বাস্তবায়ন দেখছে সিলেটের মানুষ এবং এ নিয়ে নগরী জুড়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছেন। গত কয়েক দিনে চারটি আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকায় সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। ফলে একের পর এক ভাঙছে মধুচক্র। চরম হতাশায় আছে সিলেটের মধু ব্যবসায়ীসহ চোরাকারবারীরা। তাদেরকে ধরতে প্রতিদিনই হচ্ছে কোন না কোন অভিযান।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সন্ধ্যা নামলেই অনেক হোটেল রূপ নিত মিনি পতিতালয়, মাদক ক্রয় বিক্রয়ের গোপন আস্তানা, যেখানে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা অবাধ যাতায়াত করতো আর অনৈতিক কর্মকা চালাত গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযোগ ছিল, এই ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছিল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দালালচক্র, যাদের ছত্র ছায়ায় কিছু হোটেল মালিকও জড়িত ছিল। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও বাস্তব পদক্ষেপ ছিল না কিন্তু এবার ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর তালতলা এলাকার হোটেল বিলাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নারী-পুরুষকে আটক করে। তম্মধ্যে ছিলেন একজন নারী ও চারজন পুরুষ। অভিযোগ তারা সেখানে অনৈতিক কর্মকা লিপ্ত ছিলেন। অভিযানের পরই হোটেলটি তাৎক্ষণিকভাবে সিল গালা করে দেয় সিলেট মহানগর পুলিশ। এর আগে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার সিলেট রেস্ট হাউস সিলগালা করা হয়েছিল একই অভিযোগে। আর সর্বশেষ এক সপ্তাহের অভিযান চালিয়ে নগরীর আরও দুটি হোটেল গ্রান্ড সাওদা এবং আল সাদী হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অভিযানে মোট ১২ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সুত্র জানায়, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নগরীর সব হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করে সতর্কবার্তা দেন যে হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পাওয়া যাবে, সেটি সিলগালা করা হবে। কেউ রেহাই পাবে না। এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় পুলিশি অভিযান। গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি পোশাকধারী সদস্যরাও নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেলেই চলছে অভিযান এবং সত্যতা মিললেই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে হোটেল। তবে পুলিশি অভিযানের এই ধারাবাহিকতা শুধু আইন প্রয়োগ নয় সামাজিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এমন অভিযান নিয়মিত থাকলে সিলেট আবারও তার নৈতিক মর্যাদা ফিরে পাবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকা রোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। গত সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা চাই নগরবাসী নিরাপদ এবং নৈতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশে শান্তিতে বসবাস করবে। চুরি চিনতাই রোধেও পুলিশ কাজ করছে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে যাতে হোটেলগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করে সুষ্টু সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখে। ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভুমিতে অসমাজিক কার্যকলাপ চলতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন,বছরের পর বছর ধরে নগরীর মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, কাজলশাহ, আম্বরখানা ও তালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল তথাকথিত গোপন ‘মধুচক্র’। এখন সেই চক্রের ওপর পড়েছে পুলিশের কঠোর নজরদারী। প্রতিটি অভিযানে দেখা যাচ্ছে, নবাগত পুলিশ কমিশনারের কথার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং প্রমাণ পেলেই সেই হোটেল সিলগালা করে দেয়া হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, সিলেট নগরী হচ্ছে ওলি আউলিয়াদের পূণ্যভুমি। এই ভুমির পবিত্রতা রক্ষা করতে আমি কাজ করছি। আমি যেদিন যোগদান করেছিলাম সেদিনই বলেছিলাম, সিলেট নগরী হবে নিরাপদ, শান্তির, যানযট ও হকারমুক্ত একটি ক্লিন নগরী। আমি আমার অবস্থান থেকে সাধ্যমত চেষ্টা করছি। সকলের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই সিলেট নগরীকে একটি সুন্দর নগরীতে পরিনত করতে পারব।



