ফারুক আহমাদ আরিফ | রবিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগছেন ৭১.১ শতাংশ শহুরে মানুষ। আর সারা দেশে কিশোর-কিশোরীর মধ্যে এ হার ৮৩.৩ শতাংশ। এজন্য তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত বিভিন্ন পণ্যে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ জরুরি।
কী মিলছে গবেষণায় :
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সালের ‘প্রিভেলেন্স অব ভিটামিন ‘ডি’ অ্যান্ড ফলেট ডিফিসিয়েন্সি এমোং পিপল অব ডিফারেন্ট এইজ গ্রুপ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণার উল্লেখ করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক জানান, আমাদের দেহে ভিটামিন ডি’র গড় ঘাটতি ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের দেহে। তাদের মধ্যে ৮৩.৩ শতাংশ ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগছে। গর্ভবর্তীদের মধ্যে এ হার ৭৭.৮ শতাংশ, শহরের মানুষের মধ্যে এ হার ৭১.১ শতাংশ। তা ছাড়া নারীদের গড় ঘাটতি ৭৪.৮ ও পুরুষদের ৫২ শতাংশ।
এদিকে ন্যাশনাল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট স্ট্যাটাস সার্ভে ২০১৯-২০ অনুযায়ী, ৫ বছরের কম বয়সি প্রতি চার শিশুর মধ্যে একজন অর্থাৎ ২২ শতাংশ এবং গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নয় এমন তিনজন নারীর মধ্যে দুইজন ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগছে।
ভিটামিন ডি’র অভাবে রোগবালাই :
ভিটামিন ডি’র অভাবে নবজাতকের রিকেটস হতে পারে, যাতে শিশুদের হাঁড় দুর্বল বা বেঁকে যেতে পারে। ডা. আলিভা হক বলেন, ভিটামিন ডি’র অভাবে বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, গর্ভে শিশুর বৃদ্ধি কম হয়, হাঁড় ক্ষয়ে যায়, হাঁড় ও দাঁতের সঠিক বৃদ্ধি হয় না, অসংক্রামক রোগেরঝুঁকি বেড়ে যায়। তা ছাড়া অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পায় বিশেষ করেÑ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, রক্তনালিতে চর্বি বেড়ে যাওয়া, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও বিষণ্নতা।
ভিটামিন ‘ডি’ কোথা থেকে মিলবে :
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তথা ৮০-৯০ শতাংশ ভিটামিন ‘ডি’ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। ডা. আলিভা হক বলেন, আমাদের দেশে সবাই দুধ ও দুগ্ধজাতীয় পণ্য খেতে পারে না। কিন্তু ৮৭.৫ শতাংশ মানুষ ভোজ্যতেল ব্যবহার করেন। তাই তেলে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া সহজলভ্য।
ভিটামিন ‘ডি’ কতটুকু দরকার :
প্রতিদিন খাবার থেকে কমপক্ষে ৪০০-৮০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (আইইউ) বা ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োজন। সম্প্রতি কক্সবাজারে জেলেদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যথেষ্ট সূর্যের আলোতে থাকা ও মাছের সহজলভ্যতার পরও ১৮.৬ শতাংশ জেলে ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগছে।সম্প্রতি ‘সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল : অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, জেলেদের দেহেও এর অভাব প্রকট। অথচ তারা বেশিরভাগ সময় রোদে থাকে। সে ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল একটি প্রয়োজনীয় ও সহজলভ্য পণ্য, এটিতে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ করতে হবে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের কনসালট্যান্ট ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার বলেন, সূর্যের আলোতে এক্সপোজারের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতামূলক ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ কী :
কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যার ২.৫-এর বেশি মানুষের সিরাম ২৫-এর ঘনত্ব ২৫-৩০-এর নিচে থাকলে জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম বিবেচনা করা প্রয়োজন হয় বলে পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। আর যদি সমগ্র জনগোষ্ঠী বা জনসংখ্যার উপগোষ্ঠীতে প্রকোপতা ২০ শতাংশ বা তার বেশি হয় তখন জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম গ্রহণ অপরিহার্য বলে মত দেয় সংস্থাটি। তা ছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান এবং ফিনল্যান্ডে খাদ্যে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
ভারত ২০১৮ সাল থেকে ভোজ্যতেলসহ ৫টি খাদ্যপণ্যে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ করেছে। ফিনল্যান্ড ২০০৩ সালে তা শুরু করে। আর বাংলাদেশে ২০১৩ সালে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন ও ২০১৫ সালে বিধিমালা তৈরি করে। সেখানে সয়াবিন, পামতেল ও সকল ধরনের উদ্ভিজ্জ ভোজ্যতেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজন ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ।



