বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
পাঠকের অভিমত

বেগম খালেদা জিয়া – এক হার না মানা জীবনের প্রতিচ্ছবি

মো. নিজাম উদ্দিন   |   বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বেগম খালেদা জিয়া – এক হার না মানা জীবনের প্রতিচ্ছবি

জিয়া পরিবারের রাজনীতির অতীত ইতিহাস শুধুই দেশ ও মানুষের জন্য। এদেশের তিনটি ঐতিহাসিক সংকটে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্ম সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছে ও দিচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রীর নির্দেশনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দেশনায়ক তারেক রহমান।

এক. শুধু সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী হিসাবে চাইলেই তিনি পুরো জীবনটা নিরাপদে, আরাম আয়েশে কাটিয়ে দিতে পারতেন। একজন সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসাবে সম্মান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সবই তার ছিল। তিনি তো এই নির্যাতনের নিপীড়নের পথটা পছন্দ না করলেও পারতেন। তারপরও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেন রাজনীতিতে আসলেন? তা কি শুধুই ক্ষমতার জন্য ছিল? প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য? অর্থবিত্তের জন্য? দেশ শাসনের জন্য? রক্ত আর জীবনের দামে কেনা স্বাধীনতা যখন লুটেরাদের হাতে লুণ্ঠিত হয়, ডাকাতি হয়, ছিনতাই হয়, তখন আপসহীন মানুষের রক্তে আগুন জ্বলে, বিদ্রোহী হয়, জ্বলে ওঠে, রাজপথে নামে, মুক্তির মিছিলে আসে, নেতৃত্ব দেয়। পৃথিবীর মুক্তিকামী নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস এমনই। বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী যার সৃষ্টি রাজপথ থেকে। লড়াই সংগ্রামের উত্তপ্ত রাজপথে তার সৃষ্টি। তিনি ছিলেন আপসহীন,ন্যায় বিচারের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে, মানুষের মুক্তির জন্য। তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তি।রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরে বাংলাদেশের জনগণই একজন গৃহবধূকে রাজপথে তিনি এসেছিল।

তিন বারের প্রধানমন্ত্রী এবং একাধিক বারের সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের প্রধান নেত্রী হিসাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে নজীর সৃষ্টি করেছেন তা এই জাতি নিশ্চয়ই মনে রাখবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক।

আজ ৩০শে ডিসেম্বর ২৫, সকাল ৬ ঘটিকায় বাংলাদেশের অভিভাবক, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। একজন সাধারণ গৃহবধূ কিভাবে বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেছিলেন, কিভাবে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজকে রাজনীতির মাধ্যমে এতোটা প্রভাবিত করেছিলেন তার ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে গবেষণার বিষয় হবে।বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এই সময়ে বাংলাদেশের জন্য এক অপূরনীয় ক্ষতি নিঃসন্দেহে।

 দুই. দেশ ও জাতির বড়ই দুঃসময়ে এক সাধারণ গৃহবধূকে গৃহকোণ থেকে রাস্তায় নামতে হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি লড়াই করে গেছেন। দেশের মানুষ গভীর ভালবাসায় যাকে আপসহীন দেশনেত্রী নামে ডাকে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি যেভাবে দেশবাসীকে সাতদলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এক কাতারে এনে এরশাদের পতন ঘটিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তা এক নজিরবিহীন ঘটনা। ঢাকার রাস্তার পাশে দেয়ালে দেয়ালে তখন এমন লেখাই শোভা পেত- BNP: the choice of new generation. কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরুণদের ছাত্রদল করা একটি ফ্যাশন বা ট্রেন্ডে পরিণত করেছিলেন তখন বেগম খালেদা জিয়া।

তার দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট তরুণদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলেছিল। তিনি চাইলেই পনের বছরের এই সদ্য সাবেক ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় ভালো থাকতে পারতেন। একটু আপস করে ফেললে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাকে হয়তো কারাগারে এতগুলো বছর কাটাতে হতো না। কিন্তু তিনি হাসিমুখে সব জুলুম সহ্য করেছেন। দেশের মাটি ও মানুষের প্রশ্নে তিনি কারাগারকেই হাসিমুখে বরণ করে নিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে রাজনৈতিক পাটাতন সেটা পনের বছরের জুলুম নিপীড়ন নির্যাতনের ওপর গড়ে ওঠেছে, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা কী তা ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা রাখে না।

তিন. ওয়ান ইলেভেনের আওয়ামী দালাল মইন-ফখরুদ্দিনের সামরিক সরকারও দেশনেত্রীকে তার নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিন্দু পরিমাণ নাড়াতে পারেনি। সে সময় তাকে দেশ ছাড়ার প্রচণ্ড চাপ দিলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘এই দেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা, এদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও আমার কোনো ঠিকানা নেই, বাঁচতে হয় এখানেই বাঁচবো, মরতে হয় এখানেই মরবো, এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।‘

এই ঘোষণা তৎকালীন সরকারের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। নড়বড়ে করে দিয়েছিল ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের দুঃশাসন। জীবনে জেল জুলুম নিপীড়ন নির্যাতন সব সয়ে গিয়েছেন নিরবে, নিভৃতে, নির্ভয়ে। এদেশের মানুষের জন্য তিনি যেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায়-কঠিনেরে ভালোবেসেছিলেন।

স্বামী, সন্তান, বাড়ি— সব হারালেন। আগামী দিনে বাংলাদেশ যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, সেই তারেক রহমানকেও নির্বাসনে সতের বছর কাটাতে হয়েছে! আর নিজে বাংলাদেশের মানুষকে উজার করে ভালবাসার মাশুল দিয়েছেন, কখনও পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত নির্জন ভুতুড়ে এক কারাগারে রাজবন্দি হিসাবে, কখনও পিজি হাসপাতালে একজন রাজবন্দির চিকিৎসা না পাওয়ার নির্মম সাক্ষী হয়ে! পৃথিবীতে এমন ঘটনা হয়তো আর একটাও নেই যে একটা কারাগারে মাত্র একজন আসামিকেই মানসিক যন্ত্রণায় রাখা হয়েছে! জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি ছিলেন মুক্ত, স্বাধীন কিন্তু জীবনের সঙ্গে লড়াই করেছেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। পনের বছরের এক দুঃসাহসিক লড়াইয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক আপসহীন নেত্রী হিসাবে তিনি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ন্যূনতম আপস করে ফেললে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ব্যর্থ হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতগুলো কষ্টগুলো তিনি পেয়েছেন শুধু মাত্রই রাজনীতির জন্য, শুধুই বাংলাদেশকে ভালোবেসে।

চার. জিয়া পরিবারের রাজনীতির অতীত ইতিহাস শুধুই দেশ ও মানুষের জন্য। এদেশের তিনটি ঐতিহাসিক সংকটে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্ম সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছে ও দিচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রীর নির্দেশনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দেশনায়ক তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দীত্ব এদেশের মানুষের একটা বড় অংশকে আহত করেছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে। ভাবা যায়? এদেশের মানুষকে যেমন তিনি ও তার পরিবার শর্তহীনভাবে ভালবেসেছেন তার প্রতিদানও মানুষ বারবার উজার করেই দিয়েছে। দিচ্ছে। এখনো বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির সাথেই, জিয়া পরিবারের সাথেই। যদিও জনবিচ্ছিন্ন স্বৈরাচারের চোখে তিনি ভয়ংকর আসামি ছিলেন কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের চোখে তিনি রাজনৈতিক কিংবদন্তি, গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। ভাগ্য আর বাংলাদেশের রাজনীতির উত্থানপতনই তাকে রাজনীতির পথে আসতে বাধ্য করেছে। তার নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ বাংলাদেশের জনগণ।

রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য প্রায় ত্রিশ লাখ শিক্ষিত তরুণ তরুণী রাস্তায় নেমেছিল, নিরাপদ সড়কের জন্য এদেশের কিশোর কিশোরীরা সারা বাংলাদেশ অচল করে দিয়ে পৃথিবীতে নজির স্থাপন করেছিল! জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের তরুণরা নয়া ইতিহাস তৈরি করলো। যাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল-ইনসাফ, জাস্টিস বা ন্যায়বিচার। যে দেশে প্রধান বিচারপতিকে সত্য রায় লেখার অপরাধে ফেরারি আসামির মতো বিদেশে পালিয়ে বেড়াতে হয় ন্যায়বিচার সেখানে শুধু স্বপ্নই নয়, অকল্পনীয়ও ছিল বটে। বাংলাদেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দিতে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে ন্যায়বিচার কায়েমের জন্যই কোনো স্বৈরাচারের সাথে আপস করেননি তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের যে স্বপ্ন, পরিবর্তনের রাজনীতির, গণমানুষের রাজনীতির, তিনি সারা জীবন ঠিক এই স্বপ্নটাই দেখে গেছেন। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে গেছেন।

পাঁচ.যে দেশের জন্য তিনি এত জুলুম নির্যাতন গৃহবন্দিত্ব, কারাগার, মামলা, হামলা ভোগ করছেন সেই দেশের নিষ্ঠুর শাসকরাই হত্যা করেছে তার স্বামী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। ৯৩ দিন গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় মৃত সন্তানের কফিন জড়িয়ে দেশনেত্রীর কান্না দেখেছে  পুরো বিশ্ব। সেই দেশের শাসকরাই নির্বাসনে পাঠিয়েছিল তার বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান বাংলাদেশের আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে, দেশনেত্রীকে করেছে ঘরছাড়া, বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দীর্ঘ তিন যুগের স্মৃতির মিনার বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে! তবুও তিনি আমাদের জন্যই লড়ছেন, গণতন্ত্রের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যে সংগ্রাম পরাজিত হওয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে নেই, যে সংগ্রাম হারতে জানে না। হারেনি। বেগম খালেদা জিয়া যেন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক ফিনিক্স পাখি। ধ্বংসস্তুপ থেকে বারবার যিনি ঘুরে ঘুরে দাঁড়ান। যে বাংলাদেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য, মুক্তির জন্য, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের অগণিত মানুষ রক্ত ও জীবন দিয়েছে সেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্রই রাখেনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা, খুনি হাসিনা! তিনি লড়াই করে গেছেন মানুষের অধিকারের জন্য, একটি নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নের কথা তার ভিশন-২০৩০ তে ঘোষণা করেছিলেন। দেশনেত্রীর চলমান সংগ্রাম রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। আওয়ামী লীগের কাছে সব চেয়ে বড় আতঙ্কের নাম ছিল বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান আর বিএনপি। সেজন্যই তারেক রহমান নির্বাসনে, বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলেছে দিনরাত আর বেগম খালেদা জিয়াকে বারবার কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই আজ মুক্তির সংগ্রাম চলছে সেখানেই বেগম খালেদা জিয়া আজ উচ্চারিত হন শ্রদ্ধায়, ভালবাসায়। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাই শোকাহত বাংলাদেশ, শোকাহত বিশ্বের মুক্তিকামী জনতা।

ছয়.আওয়ামী লীগ খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত রেখে নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়া অসম্ভব। তার নেতৃত্বে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে উঠবে। সেজন্যই নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রাজনৈতিক কৌশলের প্র্যাকটিক্যাল খেলা শুরু করে স্বৈরাচার সরকার। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বন্দি করা হয় বেগম খালেদা জিয়াকে। কারাগারে নেয়া হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তি ও গণতন্ত্রকে। যার চূড়ান্ত রুপ দেখেছে বাংলাদেশের জনগণ ২০১৪ সালের নির্বাচনে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে। তবে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জনগণ বলতে গেলে আরেকটি নতুন বিপ্লবেরও জন্ম দিয়েছে। মানুষতো সেদিন ঘরে বসে থাকেনি, বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে বুক খালি করে!

বেগম খালেদা জিয়া যখন গুলশানের বাসা থেকে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বকশীবাজারের দিকে রওনা হন, তখন পুরো ঢাকা মানুষের দখলে। একবিংশ শতাব্দির জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদের দখলে। তার গাড়ির চারপাশে অজস্র সন্তানের ব্যারিকেড! জ্বলে ওঠা বিদ্রোহী তারুণ্যের মিছিল।

আমি খুব সচেতনভাবেই বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের দিন ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রের অঘোষিত কারফিউ ভেঙে জনগণের জাগরণকে বিপ্লব হিসাবেই আখ্যায়িত করছি। যদিও সে দিনের সেই লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যায়নি। তবে সেই লড়াই সামনে আগানোর সাহস দিয়েছিল। একটা বিষয় মনে হয় আমাদের মনে রাখতেই হবে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে সংগ্রাম চলেছে তা কেবলই একটা নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, এ লড়াই বাংলাদেশের অস্তিত্বের। এই লড়াই মুক্তির। তাই তিনি এতোটা শ্রদ্ধার, এতোটা ভালোবাসার।

সাত. রাজনীতি তাকে যা দিয়েছে, নিয়ে গেছে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। ব্যক্তিজীবন বলতে তার কিছুই ছিল না, সব স্বপ্ন আর সম্ভাবনা তিলে তিলে শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে নির্বাসনে আর কারাগারে! নিজের ঠিকানা তার একটাই ছিল— বাংলাদেশ! আপনজন বলতে এদেশের জনগণই! বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল গ্রিক পুরাণের মিথ ফিনিক্স পাখির মতো। যে পাখি আগুনের ধ্বংসস্তুপ থেকে বারবার নতুন রূপে নব শক্তিতে জেগে ওঠে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মুক্তির এক ফিনিক্স পাখির নাম বেগম খালেদা জিয়া। চাইলেই যাকে ধ্বংস করে দেয়া যায় না। মানুষের ভোটের অধিকার ও রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার যে সংগ্রাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলেছে সেখানে তিনি ছিলেন সকল প্রেরণার উৎস।

বাংলাদেশের মুক্তির জন্য বেগম খালেদা জিয়ার লড়াই তরুণ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্রের রোল মডেল, মুক্তির আইকনে পরিণত। সারাটা জীবন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য লড়াই করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যান্টনমেন্ট নামক কারাগারে বন্দি ছিলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নয় বছর তিনি রাজপথে এরশাদের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের সেনাসমর্থিত সরকার তাকে কারাগারে বন্দি করেছে, পনের বছরের শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন পাঁচ বছর তাকে কারাগারে, হসপিটালে, গৃহে বন্দি করে রাখে। লড়াইয়ের নামই বেগম খালেদা জিয়া। দক্ষিণ এশিয়ায় তো বটেই, সারা দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের কাছেই তিনি এক সাহসের নাম, প্রেরণার নাম, এক হার না মানা জীবনের প্রতিচ্ছবি বেগম খালেদা জিয়া।

লেখক:   সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ

Facebook Comments Box
আরও
Chief Editor
Shahan Ahmed Chowdhury
Editor
J U Sumon
News Editor
Mehdi Hassan
UK Office
USA OFFICE
  • Hasan Hafizur Rahman
    264/A,Central Avenue
    Garden City
    NY 11040
    USA
সিলেট ব্যুরো
  • আব্দুর মুক্তাদির
    সিটি কর্পোরেশন মার্কেট (২য় তলা)
    চালিবন্দর, সোবহানীঘাট, সিলেট।
ঢাকা ব্যুরো
  • সৈয়দ আবু নাসের
    এমএস প্লাজা ২৮/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০