ফয়েজ আলী,সুনামগঞ্জ | রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নির্ধারিত সময় সীমার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও শুরু হয়নি জেলার বিভিন্ন হাওরের বেশির ভাগ ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। যে সব হাওরে কাজ শুরু হয়েছে তার গতি নিয়েও হতাশ কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, হাওরের পানি নামতে বিলম্বতা ও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ায় এবার জেলার তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু হাওরে সময় মতো কাজ শুরু করা যায়নি। তবে হাওর থেকে পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, নির্বাচনের দাপ্তরিক কর্মে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় প্রথম দিকে বাঁধের কাজে গতিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৭০৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ ১২ উপজেলায় উদ্বোধন করা হলেও হাওরের পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব ও পিআইসি গঠন দেরি হওয়ায় সকল হাওরে বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি প্রকল্পে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। সপ্তাহ সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোতে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। বাঁধের কাজের সার্বিক অগ্রগতি ১৫% বলে জানান তিনি।
এদিকে সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ অনুমোদিত প্রকল্পে বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কিছু কিছু প্রকল্পে ওয়ার্ক অর্ডার পাননি সংশ্লিষ্ট পিআইসিরা। অপরদিকে, বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের নেতারা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও বেশির ভাগ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। যে সকল বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে তাতেও রয়েছে ধীর গতি। তাছাড়া পিআইসি গঠনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পসহ রয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সপাদক বিজন সেন রায় বলেন, এবারের বাঁধের কাজ নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত। কাজের অগ্রগতি খুবই হতাশা জনক। এখনই তৎপর না হলে হাওরবাসীর জন্য দুঃসংবাদ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের পানির জন্য কাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ বাঁধের কাজ শুরু হয়ে যাবে। মনিটরিং জোরদার রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হবে।



